গ্রামীণ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস:
আপনার দেশ, আপনার আবিষ্কার
আমাদের গ্রামীণ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-এর মূল লক্ষ্য 'দেশের মানুষকে দেশ দেখাবো' স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অদেখা সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আর প্রাণবন্ত সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, বিদেশ ভ্রমণের আগে নিজের দেশকে জানা এবং এর বৈচিত্র্য উপভোগ করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
আমাদের বাংলাদেশে দেখার কী আছে?
রূপ-রস-গন্ধে ভরা আমাদের এই বাংলাদেশে ২৩৪৬টিরও বেশি বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে। ভাবছেন, কী কী আছে এখানে? চলুন, এক ঝলক দেখে নিই:
উৎসব আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন: লালন উৎসব, পহেলা বৈশাখ, রবীন্দ্রজয়ন্তী, গঙ্গা স্নান, বিশ্ব ইজতেমা, ঈদ উৎসব, বড়দিন, দুর্গা উৎসব—এসব আমাদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিদেশি পর্যটকরাও এসব উৎসবের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।
ইতিহাস আর ঐতিহ্যের নিদর্শন: ৫০০টিরও বেশি ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে, যা আমাদের হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতা আর বীরত্বের সাক্ষী। দেশজুড়ে ছড়িয়ে আছে শতাধিক জাদুঘর, যা আপনাকে নিয়ে যাবে ইতিহাসের পাতায়।
সমুদ্র সৈকতের হাতছানি: ১৯টি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যময় সমুদ্রসৈকত আমাদের উপকূলকে আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে। কক্সবাজার, পতেঙ্গা, কুয়াকাটা তো আছেই, এছাড়াও ১৬টি অনাঘ্রাত সৈকত অপেক্ষা করছে আপনার অন্বেষণের জন্য, যেখানে প্রতিটি ঢেউয়ের গল্প ভিন্ন।
জলের দেশের জলজ সৌন্দর্য: পৃথিবীর অদ্বিতীয় হাওরসহ ২১৯টি জলকেন্দ্রিক পর্যটন আকর্ষণ রয়েছে বাংলাদেশে। বর্ষায় হাওরের অপরূপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
আধ্যাত্মিক শান্তির ঠিকানা: ৪৭৬টি ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পর্যটন কেন্দ্র আপনাকে দেবে এক ভিন্নরকম প্রশান্তি।
গ্রাম বাংলার নিজস্বতা: ৫৫টিরও বেশি বিশেষায়িত গ্রাম রয়েছে দেশজুড়ে, যেখানে আপনি পাবেন গ্রামীণ জীবনের অবিমিশ্র স্বাদ।
বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ: বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন, ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, ওয়ারী বটেশ্বর, মহাস্থানগড়—এগুলো ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত।
হাজার বছরের প্রাচীন নগরী: সোনারগাঁয়ে রয়েছে হাজার বছরের প্রাচীন শহর পানাম নগর, যা আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য সময়ে।
বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণের আন্তর্জাতিক মান: এক অন্যরকম তুলনা
আমাদের দেশের অনেক পর্যটন আকর্ষণ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয়, যা হয়তো আপনার ধারণার বাইরে।
সমুদ্র সৈকতের ভিন্নতা: পৃথিবীর বেশিরভাগ সমুদ্র সৈকতে ঢেউ গর্জন করে আছড়ে পড়লেও, আমাদের চট্টগ্রামের কাট্টলি সমুদ্র সৈকত অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত কিয়ামা বিচের মতো। এখানে সমুদ্রের জল নাচতে নাচতে তীরে আসে, চুমু খেয়ে আবার ফিরে যায় – এক অদ্ভুত শান্ত সৌন্দর্য। একইভাবে, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের সবুজ আর জলের মেলবন্ধন যে কাউকে বিস্মিত করবে। পারকি, সাতক্ষীরার মান্দারবাড়িয়া বা বরগুনার লালদিয়া সমুদ্র সৈকতের নিজস্ব ভিন্ন বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
পাহাড়ের রূপ: যারা স্পেনের বিলবাও ভ্রমণ করেছেন, তারা সহজেই বুঝতে পারবেন আমাদের সাজেক ভ্যালি যেন 'স্প্যানিশ বিলবাও ইন বাংলাদেশ'। গ্রীষ্মকালে বান্দরবান হয়ে ওঠে 'সামারের অনিন্দ্যসুন্দর সুইজারল্যান্ড'।
পার্ক আর ঝর্ণার সৌন্দর্য: কাপ্তাইয়ের পলওয়েল পার্কের তুলনা চলে সুইজারল্যান্ডের জুরিখ পার্কের সঙ্গে। আর ভরা বর্ষায় সীতাকুণ্ডের সপ্তসুর ঝর্ণা দেখলে আপনি চোখ বুজে বলবেন, এটি 'বাংলাদেশের নায়াগ্রা জলপ্রপাত'।
জলের রাজ্য: স্বচ্ছ জলেঘেরা সুনামগঞ্জকে বলা হয় 'বাংলাদেশের কাশ্মীর'। পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির আটঘর কুরিয়ানা বা ভিমরুলিয়ার ভাসমান বাজার থাইল্যান্ড বা কেরালার ফ্লোটিং মার্কেটকেও হার মানায়। এই উপজেলার ত্রিশটি গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা জলপথ ভ্রমণকারীকে বিখ্যাত ভেনিস বা আমস্টারডামের বোট ট্রিপের কথা মনে করিয়ে দেবে।
প্রাচীন নগরীর মহিমা: চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর একাংশ, আর ঢাকার অদূরে অবস্থিত পানাম নগরীকে আখ্যায়িত করা হয় 'বাংলার ব্যাবিলন' বলে।
নতুন সম্ভাবনা: অলওয়েদার সড়ক নির্মাণের পর কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের অপরূপ সৌন্দর্য এক জাদুময় স্পর্শে উদ্ভাসিত হয়েছে।
এছাড়াও, অকৃত্রিম আতিথেয়তাসহ অদেখা বহু স্থাপনা এবং রিসোর্ট রয়েছে আমাদের অপরূপ এই বাংলাদেশে। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় নৌপর্যটন এখানে এক বড় সম্ভাবনা। বঙ্গোপসাগরে দেশের দক্ষিণের দ্বীপগুলোতে পরিকল্পিতভাবে পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এমনকি নৌপথে ঢাকা-কলকাতা কিংবা চেন্নাই-গুয়াহাটি ভ্রমণ পর্যটনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
গ্রামীণ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস-এর সাথে যোগ দিয়ে আপনার দেশকে নতুন করে আবিষ্কার করুন। আমরা আপনার পাশে আছি, আপনার ভ্রমণকে আরও সহজ ও স্মৃতিময় করে তোলার জন্য!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন